বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ — ৩৩২ পদে আবেদন করুন

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর মেধাবী ও যোগ্য তরুণ-তরুণীদের জন্য বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করে। ২০২৬ সালে এসে সেই ধারাবাহিকতায় একটি বড় আকারের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে মোট ১৩টি ভিন্ন ক্যাটাগরির পদে ৩৩২ জন কর্মী নেওয়া হবে। জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে শুরু করে আগস্ট মাসজুড়ে ধাপে ধাপে চারটি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে। যাঁরা ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, বিশেষ করে চিকিৎসাবিজ্ঞান, আইন কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাঁদের জন্য এটি এক দারুণ সময়। এই লেখায় আমরা সহজভাবে বুঝিয়ে দেব — কোন কোন পদে নিয়োগ হচ্ছে, কী কী যোগ্যতা লাগবে, বেতন কেমন, আবেদন কীভাবে করবেন এবং আরও অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য।

এক নজরে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

শুরুতেই একটা সংক্ষিপ্ত ছবি দেখে নেওয়া যাক, যাতে পুরো বিষয়টা সহজে মাথায় ঢোকে।

বিষয়তথ্য
প্রতিষ্ঠানবাংলাদেশ ব্যাংক (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়
মোট পদ ক্যাটাগরি১৩টি
মোট শূন্য পদ৩৩২টি
কর্মস্থলঢাকাসহ সারা দেশ
শিক্ষাগত যোগ্যতাএমবিবিএস, আইন বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর, কম্পিউটার সায়েন্স/আইটি/ইইই বিষয়ে স্নাতক-স্নাতকোত্তর
গ্রেড৬ষ্ঠ, ৯ম ও ১০ম গ্রেড
বয়সসীমাসাধারণত ২১-৩২ বছর, কিছু পদে ৩৫ ও ৬২ বছর পর্যন্ত
আবেদন মাধ্যমসম্পূর্ণ অনলাইন (কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি/ডাকযোগেও)
আবেদন ফি২০০ টাকা (কোটাভুক্তদের জন্য ৫০ টাকা)
ওয়েবসাইটerecruitment.bb.org.bd

চারটি ভিন্ন বিজ্ঞপ্তির প্রতিটির আবেদনের শেষ সময় আলাদা আলাদা, তাই কোন পদে কবে আবেদন শেষ হচ্ছে সেটা ভালোভাবে খেয়াল রাখা জরুরি। নিচে ধাপে ধাপে সব বিস্তারিত দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক আসলে কী কাজ করে?

বাংলাদেশ ব্যাংক হলো আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই একটি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং তখন থেকেই এটি দেশের মুদ্রানীতি ঠিক করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সামলানো এবং সব ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি রাখার দায়িত্ব পালন করে আসছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসিএস) নামের একটি বিশেষ সংস্থা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে নিয়োগের কাজ পরিচালনা করে থাকে, যাতে মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছভাবে জনবল নেওয়া যায়। এই দুই প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় চাকরি করা মানে শুধু আর্থিক নিরাপত্তা নয়, বরং সমাজে একটা বিশেষ মর্যাদাও বয়ে আনে। যোগাযোগের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত, আর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট হলো erecruitment.bb.org.bd।

কোন কোন পদে কতজন নেওয়া হচ্ছে

পুরো নিয়োগ কার্যক্রমকে চারটি আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে ভাগ করা হয়েছে। চলুন একে একে দেখে নিই।

প্রথম বিজ্ঞপ্তিঃ মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব চিকিৎসা কেন্দ্রের জন্য ৬ জন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হবে। এই পদটি জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে মূল বেতন শুরু হবে ২২ হাজার টাকা থেকে এবং ধাপে ধাপে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে।

দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিঃ সহকারী পরিচালক (আইন) পদে নিয়োগ

আইন বিভাগের জন্য ৫টি পদে সহকারী পরিচালক (এক্স ক্যাডার-আইন) নিয়োগ করা হবে। এটিও ৯ম গ্রেডের পদ এবং বেতন কাঠামো মেডিকেল অফিসারের মতোই — ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা পর্যন্ত।

তৃতীয় বিজ্ঞপ্তিঃ খণ্ডকালীন চিকিৎসক পদে নিয়োগ

মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমির জন্য মাত্র ১টি পদে একজন খণ্ডকালীন চিকিৎসক নেওয়া হবে। এই পদে নিয়মিত বেতন কাঠামো নয়, বরং দৈনিক ২,৬০০ টাকা হারে মাস শেষে সম্মানী দেওয়া হবে।

চতুর্থ বিজ্ঞপ্তিঃ আইটি খাতে সবচেয়ে বড় নিয়োগ

এই বিজ্ঞপ্তিতেই সবচেয়ে বেশি পদ রয়েছে — একসাথে ৩২০ জন। এই নিয়োগ পরিচালনা করছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়, আর সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), কর্মসংস্থান ব্যাংক, আইসিবি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান। এই পদগুলোর মধ্যে রয়েছে —

  • সিনিয়র অফিসার (আইটি) — ৩৬ জন, ৯ম গ্রেড
  • অফিসার (আইটি) / এমআইএস এবং আইসিটি অফিসার — ২৩১ জন, ১০ম গ্রেড
  • এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার / সহকারী প্রোগ্রামার — ২৮ জন, ৯ম গ্রেড
  • এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (আইটি) / মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার — ১৪ জন, ৯ম গ্রেড
  • সহকারী সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার — ৩ জন, ৯ম গ্রেড
  • এসিস্ট্যান্ট ডাটাবেইজ এডমিনিস্ট্রেটর (৯ম গ্রেড) — ২ জন
  • এসিস্ট্যান্ট সিস্টেম এনালিস্ট — ২ জন, ৬ষ্ঠ গ্রেড (অভিজ্ঞতাসহ)
  • এসিস্ট্যান্ট ডাটাবেইজ এডমিনিস্ট্রেটর (৬ষ্ঠ গ্রেড) — ১ জন (অভিজ্ঞতাসহ)
  • প্রোগ্রামার — ১ জন, ৬ষ্ঠ গ্রেড (অভিজ্ঞতাসহ)
  • ডাটাবেইজ এডমিনিস্ট্রেটর — ২ জন, ৬ষ্ঠ গ্রেড (অভিজ্ঞতাসহ)

লক্ষ্য করার বিষয় হলো, ৯ম ও ১০ম গ্রেডের বেশিরভাগ আইটি পদে ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটরাও আবেদন করতে পারবেন, তবে ৬ষ্ঠ গ্রেডের পদগুলোতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত ৩ থেকে ৫ বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত

প্রতিটি পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্ন ভিন্ন। নিচে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।

মেডিকেল অফিসার পদের জন্য স্বীকৃত কোনো মেডিকেল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি থাকতে হবে এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর নিবন্ধন অবশ্যই থাকা লাগবে। পুরো শিক্ষাজীবনে অন্তত দুটি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি থাকা জরুরি, তৃতীয় বিভাগ থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

সহকারী পরিচালক (আইন) পদের জন্য আইন বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাগবে, সাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদও থাকতে হবে। এখানেও শিক্ষাজীবনে দুটি প্রথম বিভাগ থাকা বাধ্যতামূলক।

খণ্ডকালীন চিকিৎসক পদের জন্য এমবিবিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশনই মূল শর্ত, পাশাপাশি পূর্ণ কর্মদিবস চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

আইটি সংশ্লিষ্ট পদগুলোর জন্য সাধারণত কম্পিউটার সায়েন্স, সিএসই, ইইই, আইসিটি বা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। পদভেদে ন্যূনতম একটি বা দুটি প্রথম বিভাগ/শ্রেণি লাগবে, আর তৃতীয় বিভাগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ৬ষ্ঠ গ্রেডের পদগুলোতে অতিরিক্ত হিসেবে নির্দিষ্ট মেয়াদের বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাও চাওয়া হয়েছে, যেমন এসিস্ট্যান্ট সিস্টেম এনালিস্ট পদে তিন বছর এবং ডাটাবেইজ এডমিনিস্ট্রেটর পদে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে।

বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কেমন হবে

সরকারি চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর স্থিতিশীল বেতন কাঠামো ও নানা ভাতা। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী এই নিয়োগে তিন ধরনের গ্রেড রাখা হয়েছে —

  • ৬ষ্ঠ গ্রেড: ৩৫,৫০০ থেকে ৬৭,০১০ টাকা পর্যন্ত
  • ৯ম গ্রেড: ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা পর্যন্ত
  • ১০ম গ্রেড: ১৬,০০০ থেকে ৩৮,৬৪০ টাকা পর্যন্ত

শুধু মূল বেতনই নয়, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী চাকরিজীবীরা বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বিশেষ ব্যাংকিং ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং উৎসব বোনাসের মতো সুবিধাও পেয়ে থাকেন। সব মিলিয়ে মোট মাসিক আয় মূল বেতনের চেয়ে অনেকটাই বেশি দাঁড়ায়, যা এই চাকরিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

এই চাকরি আসলে কাদের জন্য উপযুক্ত

সহজ কথায় বললে — যাঁরা এমবিবিএস পাস করে চিকিৎসক হিসেবে বিএমডিসিতে নিবন্ধিত হয়েছেন, যাঁরা আইনে পড়াশোনা শেষ করে বার কাউন্সিলের সনদ পেয়েছেন কিংবা যাঁরা কম্পিউটার সায়েন্স, তথ্যপ্রযুক্তি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর শেষ করে ব্যাংকিং খাতে টেকনিক্যাল ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাঁদের জন্য এই বিজ্ঞপ্তি একটা দুর্দান্ত সুযোগ। বিশেষ করে যেসব আইটি গ্র্যাজুয়েট সরকারি ব্যাংকিং সেক্টরে ঢুকতে চান, তাঁদের জন্য ২৩১ জনের অফিসার (আইটি) পদটি এই বছরের অন্যতম বড় সুযোগ বলা যায়।

আবেদনের বয়সসীমা কত

বয়সসীমা পদভেদে ভিন্ন। ৯ম ও ১০ম গ্রেডের বেশিরভাগ পদের জন্য প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে সর্বোচ্চ ৩২ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। ৬ষ্ঠ গ্রেডের অভিজ্ঞতাভিত্তিক টেকনিক্যাল পদগুলোর জন্য বয়সসীমা কিছুটা শিথিল করে ৩৫ বছর পর্যন্ত রাখা হয়েছে। আর খণ্ডকালীন চিকিৎসক পদে আবেদনের জন্য বয়স সর্বোচ্চ ৬২ বছর পর্যন্ত রাখা হয়েছে, কারণ এখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নিজের সঠিক বয়স জানতে চাইলে অনলাইন বয়স ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে সহজেই হিসাব করে নেওয়া যায়।

কোন জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন

এই নিয়োগে কোনো ধরনের জেলাভিত্তিক সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। বাংলাদেশের যেকোনো জেলার যোগ্য ও প্রকৃত নাগরিক নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন। ফলে দেশের যেকোনো প্রান্তের প্রার্থীরাই এখানে সমান সুযোগ পাচ্ছেন।

কীভাবে আবেদন করবেন — ধাপে ধাপে নির্দেশনা

আবেদন প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক, তবে প্রথমবার করতে গেলে একটু সতর্ক থাকা দরকার। নিচে ধাপগুলো দেওয়া হলো —

  1. প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইট erecruitment.bb.org.bd-এ প্রবেশ করতে হবে।
  2. আগে থেকে নিবন্ধিত প্রার্থীরা তাঁদের CV ID ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করবেন। নতুনরা “Register Now” অপশনে গিয়ে নিজের সম্পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করবেন।
  3. এরপর ৬০০×৬০০ পিক্সেলের পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (সর্বোচ্চ ১০০ কেবি) এবং সাদা কাগজে কালো কালিতে করা স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি (৩০০×৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ কেবি) আপলোড করতে হবে।
  4. পছন্দের পদের পাশে থাকা “Apply Online” বোতামে ক্লিক করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
  5. এরপর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বাংলা কিউআর কোড অথবা রকেট বিল পে (বিলার আইডি ৪৯৯) ব্যবহার করে ২০০ টাকা আবেদন ফি পরিশোধ করতে হবে।
  6. ফি পরিশোধের পর অবশ্যই “Verify Payment” সম্পন্ন করে ট্র্যাকিং আইডি নম্বরসহ ট্র্যাকিং পেজ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখতে হবে — ভবিষ্যতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আবেদন ফি কেমন এবং কীভাবে দেবেন

সাধারণ প্রার্থীদের জন্য প্রতিটি পদে আবেদন ফি ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে অনগ্রসর নাগরিক গোষ্ঠীর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই ফি মাত্র ৫০ টাকা। ফি দেওয়ার পদ্ধতিও পদভেদে ভিন্ন —

মেডিকেল অফিসার ও সহকারী পরিচালক (আইন) পদে আবেদনের পর স্ক্রিনে একটি বাংলা কিউআর কোড দেখা যাবে। যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ দিয়ে সেই কোড স্ক্যান করে ফি পরিশোধ করা যাবে, এরপর ওয়েবসাইটে গিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।

আর ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির আওতাধীন আইটি পদগুলোর জন্য ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রকেট অ্যাপ বা ম্যানুয়াল বিল পে ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে বিলার আইডি হিসেবে ৪৯৯ সিলেক্ট করে সংশ্লিষ্ট জব আইডি, সিভি আইডির প্রথম অংশ এবং ফি এর পরিমাণ লিখে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়। পেমেন্টের পর পাওয়া লেনদেন নম্বর (TxnID) দিয়ে ওয়েবসাইটে গিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।

প্রস্তুতি নিয়ে কিছু বাস্তবমুখী পরামর্শ

আবেদন করার সময় ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, আবেদনপত্রে কোনো তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে — পরে ধরা পড়লে নিয়োগ বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আইনি ঝামেলাতেও পড়তে হতে পারে। দ্বিতীয়ত, যাঁরা ইতিমধ্যে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, তাঁদের অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষার সময় অনাপত্তিপত্র (NOC) সঙ্গে রাখতে হবে।

পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সাধারণত তিনটি ধাপ পার হতে হয় — প্রিলিমিনারি বা এমসিকিউ পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা এবং সবশেষে মৌখিক পরীক্ষা। সাধারণ বিষয়ের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ, ইংরেজি ভাষা, গণিত-বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে। এর পাশাপাশি পদভিত্তিক টেকনিক্যাল বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় — যেমন মেডিকেল অফিসার পদে চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত প্রশ্ন, সহকারী পরিচালক (আইন) পদে দেওয়ানি-ফৌজদারি ও ব্যাংকিং আইন সংক্রান্ত প্রশ্ন, এবং আইটি পদগুলোতে ডাটাবেজ, নেটওয়ার্কিং, প্রোগ্রামিং ও সাইবার সিকিউরিটি সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকে। তাই আবেদনের পাশাপাশি এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

এডমিট কার্ড ও পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য কোথায় পাবেন

আবেদনের পর প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার তারিখ ও অন্যান্য নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর নিজের সিভি আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে শুধু অফিশিয়াল ই-রিক্রুটমেন্ট পোর্টাল থেকেই এডমিট কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। পরীক্ষার আসন বিন্যাস, ফলাফল ও যাবতীয় নোটিশ বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ওয়েবসাইট bb.org.bd এবং ই-রিক্রুটমেন্ট পোর্টালে নিয়মিত প্রকাশ করা হবে, তাই মাঝেমধ্যে এই ওয়েবসাইট দুটি চেক করতে ভুলবেন না।

মৌখিক পরীক্ষায় কী কী কাগজপত্র সাথে নিয়ে যাবেন

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষায় যাওয়ার সময় নিচের কাগজপত্রগুলো গুছিয়ে রাখা প্রয়োজন —

  • অনলাইন আবেদনের রঙিন ট্র্যাকিং পেজ
  • সব শিক্ষাগত সনদের মূল কপি ও এক সেট সত্যায়িত ফটোকপি
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন সনদ, বার কাউন্সিলের সনদ বা পেশাদার কম্পিউটার সোসাইটির সদস্যপদের মূল ও সত্যায়িত কপি
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের মূল ও সত্যায়িত ফটোকপি
  • প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত তিন কপি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি ও নাগরিকত্ব সনদ
  • চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্রের মূল কপি

প্রায়জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

বিজ্ঞপ্তিগুলো কবে প্রকাশিত হয়েছে?

চারটি বিজ্ঞপ্তি যথাক্রমে ২৯ জুলাই, ১৭ আগস্ট, ১৮ আগস্ট এবং ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।

মোট কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে?

১৩টি ক্যাটাগরির পদে সব মিলিয়ে ৩৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ কবে?

পদভেদে ভিন্ন — আইটি পদগুলোর জন্য ১ সেপ্টেম্বর, খণ্ডকালীন চিকিৎসক পদের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর, সহকারী পরিচালক (আইন) পদের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর এবং মেডিকেল অফিসার পদের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

আবেদন কোথায় করতে হবে?

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি erecruitment.bb.org.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।

ফি কত এবং কীভাবে দিতে হবে?

সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ফি ২০০ টাকা, যা বাংলা কিউআর কোড বা রকেট বিল পে-এর মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। অনগ্রসর নাগরিক গোষ্ঠীর জন্য ফি ৫০ টাকা।

শেষ কথা

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত সরকারি চাকরির সুযোগ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে আইটি খাতের তরুণদের জন্য। ৩৩২টি পদের মধ্যে ২৩১টিই একটিমাত্র পদে, যা প্রমাণ করে এবার আইটি বিশেষজ্ঞদের চাহিদা কতটা বেশি। যাঁরা যোগ্যতা পূরণ করেন, তাঁদের উচিত শেষ মুহূর্তের ভিড় ও সার্ভার জটিলতা এড়াতে যথাসম্ভব আগেভাগেই আবেদন সম্পন্ন করা। পাশাপাশি আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য সঠিক ও সত্য কিনা তা একাধিকবার যাচাই করে নেওয়াও জরুরি। নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট পরীক্ষা করলে পরীক্ষার তারিখ, এডমিট কার্ড ও ফলাফল সংক্রান্ত সব খবর সময়মতো জানা যাবে।

Leave a Comment